
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের আপামর মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। সরকার গঠনের মাত্র ২১ দিনের মাথায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই কর্মসূচি শুরু হওয়া প্রমাণ করে যে, তারেক রহমান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কতটা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
আজ (মঙ্গলবার) দিরাই উপজেলার ৯ নম্বর কুলঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. এ. রউফ জুনিয়র স্কুল প্রাঙ্গণে উপকারভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির আওতায় গৃহবধূদের নামে কার্ড ইস্যু করা হবে এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সহায়তা সরাসরি তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। উপকারভোগীরা বিকাশ বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এই অর্থ পাবেন। এর মাধ্যমে পরিবারিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে এবং নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়বে।
খন্দকার মুক্তাদির বলেন, সংসারের প্রয়োজনীয় খরচ সম্পর্কে নারীরাই সবচেয়ে ভালো জানেন। তাই পরিবারের আর্থিক সহায়তা সরাসরি তাদের হাতে পৌঁছে দিলে তা পরিবার পরিচালনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং সঞ্চয়ের সুযোগও বাড়বে। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে সামনে রেখে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো প্রণয়ন করা হয়েছে এবং বর্তমান মেয়াদের মধ্যেই সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে সিলেট বিভাগে সেচ সুবিধার অভাব এবং পানি নিষ্কাশন সমস্যার কারণে কৃষি উৎপাদন তুলনামূলকভাবে কম। কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে এ অঞ্চলের জমি থেকেও অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ কৃষিজীবী পরিবারগুলো অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ পাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের (তাহিরপুর-জামালগঞ্জ-ধর্মপাশা-মধ্যনগর) এমপি কামরুজ্জামান কামরুল; সুনামগঞ্জ-২ আসনের (দিরাই-শাল্লা) নাছির উদ্দিন চৌধুরী; সুনামগঞ্জ-৩ আসনের (শান্তিগঞ্জ-জগন্নাথপুর) এম কয়ছর আহমদ ও সুনামগঞ্জ-৫ আসনের (ছাতক-দোয়ারা) কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন এবং পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন ও দিরাই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সনজিব সরকার।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য অ্যাড আব্দুল হক প্রমুখ।
এর আগে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপকারভোগীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। কুলঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডে প্রাথমিকভাবে ৬৯৭ জন ফ্যামিলি কার্ডের তালিকাভুক্ত হয়। এর মধ্যে আজ ৫১৭ জনের বিভিন্ন ধরনের অ্যাকাউন্টে আড়াই হাজার টাকা করে জমা হবে বলে জানিয়েছে সমাজসেবা কার্যালয়।




































