back to top
Home প্রচ্ছদ দেশে স্মার্টফোনের চালান ১৪ বছরের সর্বনিম্ন

দেশে স্মার্টফোনের চালান ১৪ বছরের সর্বনিম্ন

স্মার্টফোনের চালান

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে স্মার্টফোনের চালান ১৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। স্মার্টফোনের বাজারে এ ধরনের পতন প্রযুক্তিপণ্য খাতের জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। স্মার্টফোনের চালান কমে যাওয়ার পেছনে ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা, বাজারে চাহিদার পরিবর্তন, মূল্যস্ফীতি এবং আমদানি ও সরবরাহসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের পরিসংখ্যান ও সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিবেদন ছাড়া পতনের সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

 

স্মার্টফোনের চালান কমে গেলে এর প্রভাব মোবাইল ফোন আমদানিকারক, পরিবেশক, খুচরা বিক্রেতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পড়তে পারে। একই সঙ্গে বাজারের চাহিদা ও ভোক্তাদের ব্যয় করার প্রবণতা নিয়েও নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোনের বাজারের প্রকৃত অবস্থা বুঝতে চালানের পরিমাণ, বিক্রির হার, গড় বিক্রয়মূল্য এবং ক্রেতাদের চাহিদার পরিবর্তন একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

তবে স্মার্টফোনের চালান ঠিক কোন দেশ বা অঞ্চলে, কোন সময়ের হিসাবে এবং কত শতাংশ কমেছে—এ বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে বাজার পরিস্থিতির আরও পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা সম্ভব হবে।

 

বিশ্ববাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) বৈশ্বিক স্মার্টফোন চালান আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ কমেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাবে এটি ২০১২ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়।

 

এআইয়ের চাহিদায় বাড়ছে মেমোরি চিপের দাম

স্মার্টফোনের বাজারে এই পতনের অন্যতম কারণ মেমোরি চিপের সংকট ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ডেটা সেন্টারে বিপুল পরিমাণ মেমোরি চিপ ব্যবহারের কারণে সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে স্মার্টফোন নির্মাতাদের উৎপাদন খরচ বেড়েছে এবং কিছু প্রতিষ্ঠান উৎপাদন ও চালানের পরিমাণ কমিয়েছে।

একই সঙ্গে স্মার্টফোনের দাম বাড়ায় অনেক ক্রেতা নতুন ফোন কেনার পরিবর্তে পুরোনো ফোন দীর্ঘদিন ব্যবহার করছেন। কেউ কেউ নতুন ফোন কেনার বদলে সংস্কার করা বা ব্যবহৃত ফোনের দিকেও ঝুঁকছেন।

বাজারে এগিয়ে স্যামসাং ও অ্যাপল

চালান কমলেও বৈশ্বিক বাজারে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে স্যামসাং। ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির বাজার হিস্যা ছিল ২৩ শতাংশ। অন্যদিকে, অ্যাপলের বাজার হিস্যা ছিল ২২ শতাংশ। তবে একই সময়ে শাওমির চালান ৩০ শতাংশের বেশি এবং অপো ও ভিভোর চালান ২০ শতাংশের বেশি কমেছে বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মেমোরি চিপের সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত স্মার্টফোনের বৈশ্বিক বাজারে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে কম দামের স্মার্টফোন নির্মাতারা উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন।